Wednesday, May 23, 2012

বর্ষা





গাঢ় অন্ধকারে জড়ানো দিন
মেঘে ঢাকা আকাশ-হারানো দিন,
আজ এই অঝোরে অন্ধ ধারায়
ধুয়ে মুছে যাক সবার যন্ত্রণা- বিষণ্ণতা
পৃথিবীতে আজ না আছে দিন, না রাত-
স্তম্ভিত কাল মেঘ মায়ালোকে সূর্য হারিয়েছে তাঁর পথ।

পাথর, ঘাস ভিজছে সবাই শ্রাবণের রিমঝিম ধারায়;
উঁচু নারকেল গাছটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে,
এরই মাঝে ছাতা মাথায় হেঁটে চলছে সবাই, কর্মের অভিসারে।
সেই সুখের দিনের স্মৃতি এখনো আকাশে আঁকা,
জীবনের এর race নিংড়ে নিয়েছে সবার আনন্দ-মজা।
ক্লান্ত, মুক্ত, বিক্ষত, ক্ষুধার্ত, উৎসুক-
ক্ষুদ্র গৃহের দুর্গে চলেছে ফিরে ওই দরিদ্র ভিক্ষুক।

আকাশ- ভরা মেঘের ভারে
অবাধ- অগাধ আকাশ কান্নায় ভেঙে পরে
সুদূর কালে হারিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধার সুদিন,
ছেলেবেলার গন্ধে ভরা, অন্ধকারে ঢাকা এই দিনে-
আমার প্রান রেখে এলাম ঈশ্বরের হাতে।


নদীর বুকে বৃষ্টি পরে, জোয়ার আসে জলে,
আকারহীন, হিংস্র সেই জলে
মিলিয়ে যায় নদীতীর তারই  গহ্বরে ।
ব্যতিব্যস্ত পাণ্ডাদের জগঝম্প, চামর, পাহারা
এড়িয়ে সব উদাসীন আমি শান্ত-ছন্নছাড়া,
দুর্গম, পিচ্ছিল বিশ্রী আঁকাবাঁকা এই জীবনের পথে
প্রতি মুহূর্তে সংগ্রাম করে চলেছি-
কত ভাগ্য যে বেঁচে আছি, বেঁচে আছি..................।

Monday, March 12, 2012

তুচ্ছ জীবন


                  


শৈশবে মায়ের আঁচল ছেড়ে,
ভরেছিল কুয়াশার রঙ তার জীবনে,
ভরেছিল রুক্ষতা তার বক্ষপটে।
রাস্তার ধুলো-বালি, ট্রাম- বাসের ধোঁয়া-
বছর বারোর সেই ছোটো বালক সবই নিয়েছে চিনে;
পরনে ছেঁড়া জামা, পায়ে নেই জুতো,
মা তুমি কোথায়?...ফিরে এসো।
এই বলে আকাশ পানে চেয়ে থাকে সে,
তারা হয়ে থাকবে সবসময় মা বলেছিল তারে।
তার ছোট্ট দুটো চোখে কত দুঃখ-কষ্ট , কত  খিদে,ব্যাথা
সবার ব্যাস্ততার মাঝে খেয়াল করেনি কেউ তার হতাশা।
অল্প ভালোবাসা,স্নেহ চাইছে তার মন
ফিরে পেতে চাইছে তার হারানো জীবন;
সকালে একদিন ঘুমের ঘোরে,
তার মা বলল মাথায় হাত বুলিয়ে-
বাবা আমার,আমার আঁখির কাজল -ভাল থাকিস
কখন মিথ্যের পথ অবলম্বন যেন না করিস।
বুঝল না  মা কথা তার নিরীহ মনটি,
 ঘুমে আবার ফিরে পেল তার স্বাপ্নের দেশটি।
সেইদিনের পর তার মা আর আসেনি ফিরে,
রাত হলেই চোখ তার ভিজে যায় কান্নার জলে;
বৈশাখের খাঁ-খাঁ দুপুর বা শীতের হিমেল হাওয়া,
সবই সইতে শিখেছে একলা;
তার প্রশ্নের উত্তর কেউ কি পারবে দিতে?
-কেন এত কঠোর, নিষ্ঠুর সমাজ,
পারবে কেউ তার মাকে ফিরিয়ে আনতে?
তার জীবনে shakespeare, van gough এঁরা সবাই অর্থহীন;
জীবন নদীতে তার নৌকার কান্ডারী  ,
বেঁচে থাকার যুদ্ধ লড়ে চলেছে সে দিবা-রাত্রি।

Tuesday, March 6, 2012

ইচ্ছে



কখনো পথ হারিয়ে  চলে যাই,
অন্য এক অচেনা-অজানা দেশে,
দূরে,বহুদুরে দুঃখ-কষ্ট সবকিছুকে আড়াল করে-
জানিনা, কেন মন তখন কিসের জন্যে
উড়ে জেতে চায়,পালিয়ে জেতে চায়,
খোলা আকাশে,সব বাঁধন ছাড়িয়ে।

সকালের সেই খোলা রোদ্দুর
ভুলিয়ে দেয় সব অভিমান,সব বেদনা;
শুরু হয় এক নতুন জীবন,দেয় আমাদের প্রেরণা।
অনেক ছোট্ট- ছোট্ট ইচ্ছে থেকেই যায় মনের গভীরে,
তবুও এগিয়ে চলি আমরা নিজেদের পথে।
চলে যাই এক অজানা প্রান্তরে-
বৃষ্টিতে ভিজে মনের আনন্দে
শেষে ফিরে আসতেই হয় “বাস্তবতা” ‘র ডাকে


ভিড়ের মাঝে চেনা কোন হাসি খুঁজে পাওয়ার বৃথা চেষ্টায়,
আঁধার নেমে আসে,সঙ্গি আমার এ কালরাত্রিটাই;
ফেলে আসা কিছু স্মৃতি হাথছানি দেয় বারেবারে
মিশে জেতে চায়,হারিয়ে জেতে চায় তখন
এ রাতের অন্ধকারে।

চখের সামনে উড়ে যায় স্বাধীন এক পাখি,
মনের সেই গোপন ইচ্ছেগুলো যেন নতুন করে জেগে ওঠে;
আবার হাসতে চায়,কাঁদতে চায়
ফিরে জেতে চায় আবার তাদেরই মাঝে,সেই ফেলে আসা পথে,
উড়তে চায় আকাশের নিলিমায় সস্বাধীন সেই পাখি হয়ে।